ঢাকা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, রবিবার রাত; ০৭:৫৭:০২
বার্তা »
  

নবীদের কাজ


 

উপরোক্ত উদ্দেশ্যগুলি সম্পাদন করার লক্ষে সকল নবী ও রাসূলগণ যে কাজটি করেছিলেন তা আর কিছুই ছিলনা সেটি ছিল দাওয়াতে ইলাল্লাহ।

অর্থঃ নুহ্‌কে আমি তার কওমের নিকট পাঠিয়েছিলাম, সে তাদের বলেছিল হে আমার জাতির লোকেরা তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব কবুল কর। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই।  সূরা আরাফ, আয়াত ৫৯।

 

অর্থঃ এবং সামুদ জাতির প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে পাঠিয়েছিলাম তিনি তার দেশবাসিকে ডাকদিয়ে বলেছিলেন হে আমার কওমের লোকেরা তোমরা আল্লাহর দাসত্ব কর, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। সূরা আরাফ, আয়াত ৭৩।

অর্থঃ আর আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হুদকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি তার দেশবাসিকে ডাকদিয়ে বলেছিলেন হে আমার কওমের লোকেরা তোমরা আল্লাহর দাসত্ব কর, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। সুরা হুদ, আয়াত ৫০।

অর্থঃ  আর ঈসা আঃ বনীইসরাইলদেরকে লক্ষ্য করে বলেন তোমরা সেই আল্লাহর ইবাদত কর যিনি আমার ও তোমাদের রব। এবং তার সাথে যারা শরিক করবে তাদের জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন। আর জাহান্নামে তাদের স্থান নির্ধারণ করেছেন। আর জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারি নাই। সুরা মায়েদা, আয়াত ৭২।

অর্থঃ আল্লাহর দাসত্ব কর এবং তাগুতকে পরিহার কর। সূরা               , আয়াতঃ

উপরোক্ত আয়াত সমূহ থেকে যে বিষয়গুলির দিকে আল্লাহর নবীগন দাওয়াত দিয়েছিলেন সে গুলি নিম্নরূপঃ

>    আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহবান। (অর্থাৎ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কর্মকান্ডকে ইবাদতের আওতায় আনার আহবান।)

>    আল্লাহর একাত্ববাদের প্রতি আহবান

>    সকল ধরণের শরীক স্থাপনথেকে বিরত থাকার আহবান

>    তাগুতকে পরিহার করার আহবান।

 

দাওয়তে দ্বীনের গুরুত্ব ও রাসূল সাঃ এর ভূমিকা

আস্বিয়া আলাইহিস সালামদের দাওতি কর্মকান্ডের বর্ণনা করেই শেষ করা হয়নি বরং রাসূল সাঃ এর প্রতি দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব  এভাবে নাযিল করা হয়েছে যে,

অর্থঃ হে রাসূল আপনার প্রতি যা কিছু অবর্তীণ করা হয়েছে তা যথাযথ ভাবে পৌছে দিন। (অর্থাৎ পরিপূর্ণ দাওয়াত পৌছে দিন) যদি আপনি না করতে পারেন তা হলে আপনি রেসালাতের সঠিক দায়িত্ব পালন করলেন না। সূরা মায়েদা, আয়াত ৬৭।

>    এ আয়াত থেকে আমরা একটি কথা বুঝতে পারি তা হলো দাওয়াতি কাজ না করলে আল্লার হুকুম অমান্য করা হয়।

হাদীসঃ দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূল সাঃ বলেছেন

অর্থঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাঃ হতে বর্ণিত রাসূল সাঃ বলেন একটি আয়াত হলেও তা আমার পক্ষ থেকে প্রচার কর। আর বনীইসরাইল সম্পর্কে আলোচনা কর। তাতে কোন দোষ নাই। যে ব্যক্তি ইচ্ছা পূর্বক আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে সে যেন তার চিরস্থায়ী ঠিকানা জাহান্নামকে ক্রয় করে নেয়। বুখারী।  যে কোন বিষয় ভিত্তিক আয়াত হাদিসের বই দেখলে পবেন।

হাদীস

অর্থঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাঃ বর্ণিত তিনি বলেন আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন আল্লাহ তায়ালা সেই ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন যে আমার একটি হাদিস শুনেছে এবং যে ভাবে শুনেছে ঠিক সে ভাবেই তা অপরের নিকট পৌছিয়েছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌছানো হয়েছে সে ব্যক্তি শ্রোতা অপেক্ষা অধিক রক্ষনা বেক্ষনকারি হয়ে থাকে । তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ। 

আমাদের দাওয়াতের ক্ষেত্র

>    সকল ছাত্র

>    প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী

>    এলাকার সাধারণ মানুষ।

দাওয়াত দানকারীর বৈশিষ্ট

>    দয়ীকে হেকমাত অবলম্বন করা

>    স্বাভাবিক সময়ে 

>    অস্বাভাবিক সময়ে

>    উত্তম উপদেশ বর্ণনার অধিকারী হওয়া

>    দায়ীকে যুক্তি তর্কের মাধ্যমে দাওয়াত উপস্থাপনের যোগ্য হওয়া। (এ ক্ষেত্রে কোরআন ও হাদিসের বক্তব্য গুলি উপস্থাপন করতে পারলে ফলাফল বেশী হওয়ার সম্্‌ভবনা রয়েছে।)

অর্থঃ হে নবী তোমার রবের পথের দিকে দাওয়াত দাও হিকমাত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে। আর পরস্পর বিতর্ক কর উত্তম পন্থায় বা উত্তম যুক্তি প্রদানের মাধ্যমে। তোমার রবই অধিক অবগত আছেন কে তার পথ হতে ভ্রষ্ট হয়েছে। আর কে সঠিক  পথে আছে। সূরা নাহল, আয়াত ১২৫।

>    দায়ীকে চরম ধৈর্যশীল হওয়া।

অর্থঃ আর ধৈর্য ধারণ করুন কেননা আল্লাহর ওয়াদা সম্পুর্ণ সত্য। যারা বিশ্বাস করেনা তারা যেন কখনও তোমাকে গুরুত্বহীন মনে না করে। সূরা রূম, আয়াত ৬০

>    দায়ীকে বিরাগ ও ক্ষমার মানষীকতার অধিকারী হওয়া।

অর্থঃ আর তারা রাগকে সংবরণকারি এবং মানুষদের প্রতি ক্ষমাশীল।  সূরা     আয়াত  

>    দায়ীকে কথা ও কাজের মিল রাখা

অর্থঃ হে ঈমানদার লোকেরা তোমরা এমন কথা কেন বল যে কাজ তোমরা কর না। সূরা সফ, আয়াত ২

>    দায়ীকে জ্ঞানগত দিকে শ্রেষ্ঠ হওয়া।

>    দায়ীকে টার্গেটকৃত ব্যক্তির মন মানষীকতা ও অবস্থার প্রতি নজর রাখা।

>    দাওয়াতকে সহজ রূপে দাওয়াত পেশকারী হওয়া।

হাদীসঃ

অর্থঃহযরত আনাস থেকে বর্ণিত তোমরা সহজ কর কঠিন করনা, সুসংবাদ দাও ঘৃণা সৃষ্টি করনা। মুত্তাফিকুন আলাইহে।