ঢাকা, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮, বৃহস্পতিবার বিকাল; ০৫:৩৩:৫৮
বার্তা »
  

টিপাইমুখ ড্যাম এবং বাংলাদেশের করণীয়


 

বাংলাদেশকে বারবার আশ্বাস দেয়ার পরও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল ভারত। বাংলাদেশের প্রতি আশ্বাসটি দেয়া হয়েছিল ভারতের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং কথা দিয়েছিলেন, টিপাইমুখে ভারত এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির কথা বিস্মৃত হয়ে একটি জলবিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে ভারত আরও একধাপ এগিয়ে গেল। গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ভারতের মণিপুর রাজ্য সরকারসহ ৩টি সংস্থার মধ্যে এ ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তির খবর এ দেশের সংবাদপত্রে প্রকাশের পর থেকে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের প্রতারিত বোধ করছে। এক কথায় বলা যায়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতারণাই হলো নিরবচ্ছিন্ন বাস্তবতা। ১৯৭৫ সালে এপ্রিলের ২১ থেকে মে মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের সম্মতিতে ফারাক্কায় ভারত পরীক্ষামূলকভাবে যে ফিডার ক্যানেল চালু করেছিল, তা অদ্যাবধি অব্যাহত আছে। পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা পরিণত হয়েছে একটি চিরস্থায়ী ব্যবস্থায়। মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতের হাতে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করলেও ভারত অদ্যাবধি বাংলাদেশের কাছে তিনবিঘা করিডোর অনন্তকালের জন্য লিজ দেয়নি। বিভিন্ন বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে তিনবিঘা করিডোর কড়া পাহারায় ২৪ ঘণ্টার জন্য খুলে দেয়া হয়েছে মাত্র। এতে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীর কষ্ট লাঘব হলেও চুক্তির শর্ত মোতাবেক তিনবিঘা করিডোরের ওপর বাংলাদেশের আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ প্রতারণার দৃষ্টান্তটি হচ্ছে টিপাইমুখে ড্যাম নির্মাণে ভারতের আরও এগিয়ে যাওয়া।

 

৫০-এর দশক থেকে ভারত বরাক নদের ওপর জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য একটি ড্যাম নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। প্রস্তাবিত টিপাইমুখ ড্যামটি নির্মিত হবে ভারতের মণিপুর রাজ্যের বরাক নদে। এ ড্যামের অবস্থান বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। এ প্রকল্পটি জুলাই ২০০৩-এ অনুমোদিত হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ডিসেম্বর ২০০৬-এ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ড্যামের অবস্থানসংক্রান্ত প্রথম ও দ্বিতীয় দফার অনুমোদন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ভারতের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় অক্টোবর ২০০৮-এ প্রদান করে। এরই মধ্যে পরিবেশগত প্রতিফল মূল্যায়ন এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা সমীক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। কথা ছিল ভারত সরকার ২০০৪-এর ফেব্রুয়ারি/মার্চে ড্যাম নির্মাণ সম্পর্কে গণশুনানি করবে। কারণ এই ড্যাম নির্মাণের ব্যাপারে মণিপুর রাজ্যের জনগণের ঘোর আপত্তি আছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

মণিপুর রাজ্যের আইনসভা একসময় এই ড্যাম নির্মাণের প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছিল। এই ঝামেলা এড়ানোর জন্য মণিপুর রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা হয় এবং মণিপুর রাজ্য সরকারের সঙ্গে সম্মত স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এ ছাড়া মিজোরাম সরকার এবং অসম সরকারের কাছ থেকেও অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় স্তরের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এবং ড্রিলিং কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার। শোনা যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক এ জন্য অর্থায়ন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩০০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা প্লাবিত হয়ে যাবে। যেমনটি হয়েছিল কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের পর বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছে, বাঁধ নির্মাণের ফলে যে কৃত্রিম জলাধার বা হ্রদ সৃষ্টি হবে, তাতে ১৫.৫ বিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি সংরক্ষিত হবে। তবে পরবর্তী সময়ে এর পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। বাংলাদেশের পানি বিজ্ঞানীদের মতে, বরাক ও টুইভাই নদের অববাহিকায় সারা বছর ধরে যে বৃষ্টিপাত হয় যার ফলে পারস্পরিক সংযুক্ত নদী দুটিতে জলপ্রবাহ সৃষ্টি হয়, সেই পরিমাণ পানি জলাধারে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে বাংলাদেশের সুরমা, কুশিয়ারা ও মেঘনা নদীতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। বাঁধটি ৩৯০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৬২.৮ মিটার উচ্চ। এটির অবস্থান বরাক ও টুইভাই নদের সঙ্গমস্থল থেকে ৫০০ মিটার নিম্নপ্রবাহে। সমুদ্রের পানিস্তর থেকে এর উচ্চতা ১৮০ মিটার ওপরে। বাঁধটি নির্মিত হচ্ছে এমন একটি স্থানে যেটি প্রচণ্ডরকম ভূমিকম্পপ্রবণ। রিখটার স্কেলে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে বাঁধটি ধসে পড়তে পারে এবং জলাধারে সংরক্ষিত বিপুল জলরাশি নিকটবর্তী কাছার শহরকে ২৫ থেকে ৩০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে দেবে এবং সিলেট শহরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ ফুট পানির নিচে ডুবিয়ে দেবে। পানির তোড় এতই প্রবল হবে যে সিলেট অঞ্চলের স্থাপনাগুলো খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে। এ জন্যই বাংলাদেশের স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদ ড. আকবর আলি খান মন্তব্য করেছেন যে টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের জন্য একটি টাইমবোমা।

 

বাঁধের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মেঘনা অববাহিকায় অকল্পনীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশগত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। সিলেট ও কিশোরগঞ্জের হাওর-বাঁওড়গুলো প্রায় জলশূন্য হয়ে পড়বে। পলিমাটি আসা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে কৃষিজমির উর্বরা শক্তি ধ্বংস হয়ে যাবে। সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের আবাসস্থল কৃষি শিল্প, মত্স্য সম্পদ, বনজ সম্পদের দিক থেকে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বাঁধ চালু হওয়ার ২০-২৫ বছরের মধ্যে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের হাওর-বাঁওড়গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অপ্রতিরোধ্য প্রতিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হয়ে ৫ কোটি মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে। রিভার মরফোলজিতে নিদারুণ পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে অভিন্ন সীমান্ত। ফলে প্রতিবেশ বা ইকোলজির দিক থেকে ভারতীয় অংশে যেকোনো হস্তক্ষেপ শুধু ভারতেই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না, বাংলাদেশেও তার প্রতিক্রিয়া ঘটবে। সুন্দরবনের বেশিরভাগ বাংলাদেশে অবস্থিত হলেও এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভারতে অবস্থিত। কাজেই বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে জীববৈচিত্র্যের প্রকৃতি ভারতীয় অংশের জীববৈচিত্র্যের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু ভারতীয় অংশে ঘটলে বাংলাদেশের অংশেও তার প্রতিক্রিয়া হবে। একই ভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের অংশে জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ ভারতীয় অংশেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। সুতরাং সামগ্রিকভাবে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন। টিপাইমুখে বাঁধ নির্মিত হলে সুরমা, কুশিয়ারা ও মেঘনা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে সমুদ্রের নোনাপানি মিঠাপানিকে গ্রাস করবে। এর ফলে মেঘনা অববাহিকার আবাদি জমি লবণাক্ততার শিকার হবে। ফলে কৃষি ও মত্স্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হবে।

 

বাংলাদেশে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে পরিবেশ উদ্বাস্তুর সমস্যা দেখা দেবে। কারণ মানুষ তাদের ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রা হারিয়ে ফেলবে। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত মানুষ বাঁচার তাগিদে আশপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে। পার্শ্ববর্তী ভারতীয় অঞ্চলের জনপদও এর থেকে বাইরে থাকবে না। ভারত তার ভূ-খণ্ডে জনমিতিক পরিবর্তন যাতে না ঘটে তার জন্য বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি যদি এমনটি দাঁড়ায় যে জীবন ধারণ করাই কঠিন, তখন এসব দুর্যোগকালীন মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা কঠিন হবে। সে ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ভারত যদি কেবল তার আশু লাভের বিবেচনা করে এবং সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনায় না নেয়, তাহলে সেটাও ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জন্য মঙ্গলকর হবে না। ভারতের পরিকল্পনাবিদরা এ দিকটাও বিবেচনায় রাখবেন, সেটাও আশা করি।

 

টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বর্তমান সরকারের ভূমিকা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবাদ করা হয়েছে বলে আমাদের চোখে পড়েনি। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের সঙ্গে এ নিয়ে চুক্তি হয়েছে। যদি ভারত চুক্তির বরখেলাপ করে তাহলে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যাবেন। মজার ব্যাপার হলো টিপাইমুখ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তিই হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সমস্যাটিকে পাস কাটিয়ে যাওয়ার মতো। সরকার সমর্থক কিছু বুদ্ধিজীবী বলার চেষ্টা করছেন, বাঁধটি যদি জলবিদ্যুত্ উত্পাদন করার জন্য হয় তাহলে বাংলাদেশের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। এই যুক্তিটি যে অত্যন্ত খোঁড়া তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদের মধ্যে অনেকে বলছেন, ভারত ফুলেরতলে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে যেহেতু সরে এসেছে, সেহেতু টিপাইমুখ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। ফুলেরতল ব্যারাজ দিয়েই ভারত বরাকের পানি সেচের জন্য প্রত্যাহারের কথা ভাবছিল। প্রকৃত প্রস্তাবে ভারত এই মর্মে কোনো লিখিত চুক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদন করেনি। সুতরাং টিপাইমুখ ড্যাম নির্মিত হলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না—এরকম প্রচারণা অপরিণামদর্শী এবং চরমভাবে ভারততোষণমূলক। দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনও সরকারকে টিপাইমুখসংক্রান্ত ভারতীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে সময়মত অবহিত করতে পারেনি। এটা তাদের চরম ব্যর্থতা।

 

বাংলাদেশের কী করা উচিত? বাংলাদেশের মনে রাখতে হবে, এই ইস্যুতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলের শরণাপন্ন হতেও হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল কিছু আশঙ্কিত ক্ষতির কথা শুনে বিশ্বাস স্থাপন করতে চাইবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে নিখাদ তথ্য, যুক্তি ও প্রমাণ। এ জন্য বাংলাদেশের আশু করণীয় হলো প্রয়োজনীয় সমীক্ষার মাধ্যমে টিপাইমুখ ড্যামের বিরূপ প্রতিক্রিয়াগুলো চিহ্নিত করা। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী ভারত তাদের করা সমীক্ষাজাত সব তথ্য-উপাত্ত বাংলাদেশকে দিতে বাধ্য। এজন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রাসঙ্গিক দাবি ভারতের কাছে জানাতে হবে। এ ছাড়া কোনো অভিন্ন নদ-নদীর পানির প্রবাহ এবং এর গুণগত মানে পরিবর্তন আনার জন্য যেকোনো পদক্ষেপের পক্ষে বাংলাদেশের অনুমোদন ভারতকে পেতে হবে। কিন্তু ভারতীয় পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেসব ব্যাপারে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়নি। এটাও আন্তর্জাতিক রীতিনীতির বরখেলাপ। সত্ প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা করা। এর ফলে দু’পক্ষের বিশেষজ্ঞরা সব ব্যাপারে একমত হবেন, সেটাও আশা করা যায় না। এ জন্য নিরপেক্ষ তৃতীয়পক্ষের সালিসেরও প্রয়োজন হতে পারে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের সত্ প্রতিবেশীর ভূমিকা পালন করতে চায়, তাহলে এই কাজগুলো করার ব্যাপারে সম্মত হতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটাকে বৈরিতা বলেই বিবেচনা করা সঙ্গত হবে। অভিন্ন নদীর পানির ভাগাভাগি ও ব্যবহার নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। তবে বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে অভিন্ন নদ-নদীর ক্ষেত্রে এরই মধ্যে গৃহীত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপগুলো (State Practices) রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্নিহিত সার্বভৌম সমতার বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিধায় এগুলো International Customary Law-এর অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ভারত নিজেও পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি করে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করে (যদিও এই চুক্তিতে Guarantee Clause Ges Arbitration Clause নেই বলে বাংলাদেশ চুক্তিতে সম্মত পরিমাণ পানি পাচ্ছে না) অন্যান্য রাষ্ট্রের অনুসৃত অনুশীলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। সুতরাং টিপাইমুখসহ সব অভিন্ন নদ-নদীর পানির হিস্যা ভাগাভাগির সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ভারতের শামিল হওয়া যুক্তিসঙ্গত।

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ mahbub.ullah@yahoo.com