ঢাকা, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮, বৃহস্পতিবার বিকাল; ০৫:৩৩:৫৪
বার্তা »
  

টাইম ইজ ম্যাচিউরড অ্যান্ড অ্যালার্মিং


 

দেশ এভাবে চলতে পারে না। চলা উচিত নয়। অর্থনৈতিক সঙ্কট সহনীয় মাত্রার বাইরে চলে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিতর্ক, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রশ্নে, রাজনৈতিক সঙ্কট আরো বাড়িয়ে তুলবে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিভক্তিও বিতর্কিত ইস্যু। ট্রানজিট-করিডোর দিয়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার পর টিপাইমুখ বাঁধ বিক্ষুব্ধ জনতাকে ফুঁসে ওঠার কারণ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধাপরাধ মামলার গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের কোঠায়। এর সংজ্ঞা নিরূপণ, আইনি জটিলতা, বিচারপ্রক্রিয়া ও তদন্তের ধরন কোনো কিছুই বৈধ ও মানসম্মত নয়। তার ওপর ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে নিয়ে নানা প্রশ্ন। এই ইস্যুতে সরকারের স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ। আস্থার সঙ্কট সর্বত্র।

 

এভাবে চললে রাজনৈতিক সঙ্কট ও সাংবিধানিক জটিলতা আরো ঘনীভূত হবে। প্রশ্ন উঠবে, কিভাবে দেশ চলছে। আসলে দেশ চলছে না। দেশ কার্যত একরোখা দৈত্যের অপছায়ায় পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অথচ দেশে নির্বাচিত কিন্তু কর্তৃত্বপরায়ণ সরকার আছে, তার পরও দেশ চলছে না- এর অর্থ দাঁড়ায় সরকার সংবিধানসম্মতভাবে দেশ চালাচ্ছে না। মর্জিনির্ভর দলীয় আমেজে সাজানো প্রশাসনও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। সরকার চলছে আশা-আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করে, বেপরোয়াভাবে। ফল দাঁড়িয়েছে অসংখ্য সমস্যায় দেশ ভারাক্রান্ত। কোনো সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। সমস্যার ছিদ্র বন্ধ করার উদ্যোগও নেই, বরং আরো বড় ফুটো করে দেয়া হচ্ছে। বিরোধী দলও এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বিকল্প রাজনীতি করতে পারছে না। সরকার হামলা-মামলা করে সেই সুস্থ ধারার গলা টিপে ধরে আছে। প্রতিদিন সরকার একটি- দুটি করে নতুন ইস্যুর জন্ম দিচ্ছে- প্রধান বিরোধী দল নতুন নতুন ইস্যুর পেছনে ছুটছে। অতীতে দেখা গেছে ,এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সরকার নিজের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে, বিরোধী দলের প্রয়োজন পড়ে না। এমনিতেই গনেশ উল্টে যায়। আবার বিরোধী দলও ডজন ডজন ইস্যুর রাজনীতি মুলতবি রেখে একদফার সরকার হঠাও আন্দোলনে মনোযোগ দিতে বাধ্য হয়। জনসমর্থনও পায়। সবাই জানেন ও মানেন অর্থনৈতিক সমস্যা গলা অবধি পৌঁছে গেছে। যেকোনো সময় সরকারের অর্থনৈতিক দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের বিশ্বাস টুটে গেছে। জনগণ সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে- এ সরকার আর পারবে না। জনগণের এই মনস্তাত্ত্বিক উপসংহার বিরোধী দলের বাড়তি পাওনা। সরকারের জন্য দুঃসংবাদ।

 

পর্যবেক্ষকেরা একমত, আওয়ামী লীগ রাজপথের রাজা হলেও সরকার পরিচালনায় অযোগ্য। অতীতের অভিজ্ঞতা যোগ হয়ে বর্তমান প্রমাণ করেছে সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগ শুধু অযোগ্যই নয়, অপরিণামদর্শীও। কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ি এখন মস্তকবিহীন দেহে রূপান্তরিত হয়েছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পদ্মা সেতু- সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়েছে। কোনো কোনো উদ্যোগ ও সরকারি সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে সরকারের কপাল পোড়ার ব্যবস্থা করেছে। এখন রিজার্ভ থেকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কেন্দ্র শেয়ারবাজার- সর্বত্র হাহাকার। সরকারের প্রণোদনা প্রস্তাবে কারো আস্থা ফিরে আসেনি। কেউ প্রণোদিতও হয়নি, বরং ৯৬ সালে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার শোকের মাতম নতুন করে জেগে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন- রিজার্ভ বঙ্গবন্ধুর আমলেও ছিল না, তার পরও সরকার চলেছে- তখন দেশের তাবৎ অর্থনীতিবিদ শুধু হাসেনই না, এই সরকারের অনিবার্য ভাগ্যবিপর্যয় ও অনাকাঙিক্ষত পরিণতি নিয়ে কপালও চাপড়ান। প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন ঋণ করে ঘি খাচ্ছেন না- তখন ঋণভারে জর্জরিত অর্থনীতির দগদগে ক্ষতটা কত বড় হয়েছে, তা আর প্রতিপক্ষ ও বোদ্ধা জনগণকে দেখিয়ে দিতে হয় না। দ্রব্যমূল্যের সূচক জানার জন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। বাজারে গেলে জনগণই টের পেয়ে যায়। বাড়িভাড়া বাড়লে সরকার যুক্তিহীন বুঝ দিলেও লাভ হয় না। জনগণ বুঝে নেয় ক্রয়ক্ষমতা ও টাকার দাম একসাথে কমেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়েছে। পরিবহনের ভাড়া জনগণ দেয়। সাধারণ মানুষ বিলাসবহুল গাড়িতে চেপে মন্ত্রী-আমলা ও সুবিধাভোগীদের মতো অফিসে যাতায়াত করে না। তাই জনভোগান্তির ব্যাপারে বিরোধী দলের কানপড়া দিতে হয় না।

 

এই সরকারের বড় দোষ মৌলিক ও দৃশ্যমান সমস্যাও আমলে নেয় না। সাফাই গায়। কুতর্ক করে। এর-ওর ওপর দোষ চাপায়। তোতাপাখির মতো সব সমস্যার জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করা একধরনের বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর আছে যুদ্ধাপরাধ মামলা ঠেকানোর ভূত দেখার দুরারোগ্য ব্যাধি।

 

সমস্যা স্বীকার করলে সমাধানের পথ পাওয়া যায়। ভুলটা জানলে ও মানলে তওবা করে সঠিক পথে আসার সুযোগ থাকে। নানা উপায়-উদ্যোগ নিয়ে ক্ষতি ও সঙ্কট কমানো যায়। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকৃতিনির্ভর মওসুমি বায়ুর দেশে বাম্পার ফলন দিয়ে রিজার্ভ মোকাবেলা করতে পারবেন বলে জনগণকে সান্ত্বনার বাণী শোনান- সেই দেশের জনগণের কপালের দুঃখ খণ্ডানোর আর কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়।

 

ঢাকা মহানগরে শত সমস্যা। কোনো মনোযোগ নেই। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডেসা, ডেসকো, ওয়াসা, রাজউক প্রভৃতি নিয়ে না ভেবে রাজধানী ভাগ করে আক্কেলসেলামি দেয়ার ব্যবস্থা করা কেন? ঢাকার কোন ভাগে রাজধানী থাকবে- কোন অংশে থাকবে সচিবালয়, এসব প্রশ্ন ছোট নয়। নগর ভবনটা ভাগ করবেন- না দুই অংশে দুটো নগর বানাবেন। টাকা জোগাবে কে! প্রশাসনিক কারণে ভাগবিন্যাস দোষের কিছু নয়। তাই বলে একক সিটি করপোরেশন ভাগ করার মোটা বুদ্ধি চাপল কেন? কেনই বা যা নজিরবিহীন তা নিয়ে এত টনটনে ভাব, চার শ’ বছরের ঢাকা ভাগের দুরভিসন্ধি জনগণের কাছে স্পষ্ট। এটা যে রাজনৈতিক চাতুর্য ও জনগণকে বোকা বানানোর ফন্দি তা পাগলও বোঝে। এ সরকার কতটা গোঁয়ারতুমিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে- তার সর্বশেষ প্রমাণ ঢাকাকে ৪ মিনিটেই দুই ভাগ করা। জনগণ, বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবী, সব বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, ঢাকাবাসী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিটি কাউন্সিলর কারো মতকেই সরকার তোয়াক্কা করেনি।

 

বর্তমান সরকার সব কিছুকে লেজেগোবরে করে ফেলেছে। জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে নিতে জনগণকে একেবারে বিগড়ে দিয়েছে। রাজপথে গুজব, কানকথা ও ফিসফিসানির ঢল নেমেছে। হাটে-ঘাটে-মাঠে, রাজপথে, বাসে-ট্রেনে জনগণের ক্ষোভের প্রকাশটা লাখো গুণ বেড়ে গেছে। জনগণ ভাবতেও চায়নি এত দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার মুখথুবড়ে পড়বে। এভাবে কথার খই ফুটিয়ে জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে। রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার আগুনে দগ্ধ হয়ে হামলা-মামলা করে হাজার হাজার মানুষকে মজলুম বানিয়ে ছাড়বে। বিরোধী পক্ষের অফিস দখল করে পরগাছা গণতন্ত্রের চাষ করবে।

 

রাজনৈতিক ব্যাকরণ অনুযায়ী সরকার কিছু ইস্যু ছুড়ে দিয়েছিল বিরোধী দলকে ব্যস্ত রাখার বদনিয়তে। আশা ছিল বিরোধী দলের কেউ কেউ হামলা-মামলা ঠেকাতে ঠেকাতে কাবু হয়ে যাবেন। আসল ইস্যু ভুলে মুক্তি দাও মুক্তি চাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন। অন্যরা এতিমের মতো নিঃসঙ্গ হয়ে দহলিজে বসে বসে ঘরোয়া রাজনীতির অতীতে ফিরে যাবেন। সরকারের কর্তৃত্ব ও খামখেয়ালিপনা চ্যালেঞ্জ করার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। সরকারের এই অপকৌশল সুফল দিত- যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সচল থাকত। প্রশাসন থাকত গতিশীল। অর্থনীতি হতো সবল। বিদেশনীতি হতো দেশ-জাতির স্বার্থানুকূল। এখন বিরোধী দলের পিণ্ড চটকে লাভ নেই। নির্বাচন কমিশন বলে দিয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন কঠিন’। দুদক বলে দিয়েছে তাদের দন্তনখরহীন অবস্থার কথা। স্পিকারও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। অর্থনীতিবিদেরা পতনের করুণ বিউগল সুর বাজিয়ে দিয়েছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞরাও দেশের সংবিধান কোথায় আছে জানেন না। রায় হয়, সেই পূর্ণাঙ্গ রায় মাসের পর মাস পাওয়া যায় না। বিচার বিভাগ নিয়ে খোদ আইনের লোকেরা হতাশ। তার ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রকে অকার্যকর করে দেয়ার পর বাঘে ধরলে ছাড়ে শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়ে না’, কিংবা শেখ হাসিনা যাকে ধরে চুরমার করে ফেলে, হাড্ডি পর্যন্ত রাখে না’- মন্ত্রী ও নেতাদের এমন উক্তি প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ বাড়ায়নি, ডুবিয়েছে। এর নাম আপসহীনতা নয়, প্রতিহিংসাপরায়ণতা।

 

তিন বিঘা হস্তান্তর হলো না, সীমান্তবিরোধ মিটল না, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হলো না। তারপর তিস্তাচুক্তি ঝুলে যাওয়ার পর টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সরকার এতটা বেআক্কেলের মতো আচরণ করবে তা মোটেও কাম্য ছিল না। দিল্লির প্রতি অনুরাগ, বিশ্বাস ও আস্থা এক কথা, দেশের স্বার্থ ও দেশপ্রেম আলাদা কথা। ভাটির দেশের মানুষকে যদি বলা হয় উজানে বাঁধ দেয়া হবে- ভাটিতে ক্ষতি হবে না, তাহলে জনগণকে কতটা বোকা ভাবার অবস্থায় চলে গেছে এ সরকার তা সহজেই বোধগম্য। বাঁধ, ব্যারাজ, ড্যাম যা-ই হোক ভাটির দেশ প্রাকৃতিক কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেই হবে। এটা বোঝার জন্য সাধারণ কৃষিশ্রমিক হওয়াই যথেষ্ট- এর জন্য বৈজ্ঞানিক হতে হয় না। সরকার ভারতের সাথে অর্থহীন গাঁটছড়া বাঁধতে গিয়ে ভারতীয় জনগণের নয়, দিল্লির দালাল খ্যাতি পোক্ত করেছে। জনগণের চোখে দিল্লি ও আওয়ামী লীগ যুগলবন্দী হয়ে গেছে। এবারই দিল্লি ও আওয়ামী লীগকে একেবারে ব্র্যাকেটবন্দী অবস্থায় পাওয়া গেল।

 

সরকার এভাবে চলার অর্থ গণতন্ত্রের নাবালক শিশু শেষ পর্যন্ত বধ হয়ে যাওয়া। কারণ সরকার রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়ে হলেও ক্ষমতায় থেকে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার খোয়াব দেখছে। পরিস্থিতি জানান দিচ্ছে জনগণ ও বিরোধী দল এই শখ পূরণ হতে দেবে না; বরং সামগ্রিক পরিস্থিতি উল্টো আলামত দেখাচ্ছে। যদি সরকার গোঁয়ারতুমির আশ্রয় নেয়, নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হবে। ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা বেড়ে যাবে। তা থেকে উত্তরণের জন্য সাংবিধানিক গোঁজামিলের আশ্রয় নিয়ে সরকার বাঁচতে চাইবে। নিশ্চিত করে বলা যায়- জোড়াতালি দেয়া সংবিধানের বরাতে জনগণ এবার প্রবোধ মানবে না। এ ধরনের অন্যায় আবদার ও গোঁজামিল জনগণ মেনে নেয়ার কথা নয়। এ ক্ষেত্রেও সরকার জবরদস্তির আশ্রয় নিতে চাইবে। তত দিনে সরকারের ক্ষমতার দাপট ও জবরদস্তির বরফ আরো গলে যাবে। রাজনৈতিক শূন্যতার সেই সুযোগটা বিরোধী দল সাংবিধানিকভাবে নেয়ার অবস্থায় হয়তো থাকবে না, সেই অবস্থায় জনগণকে ছোবল মারাও সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। কারণ সরকার তত দিনে জনমতের তোড়ে কর্তৃত্ব হারাবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে- রাজনীতিবিদেরা যখন নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতেও দ্বিধা করতে চান না, তখনই পরিস্থিতি তৃতীয় শক্তির উপস্থিতি অনিবার্য করে তোলে। দাতারা সক্রিয় হয়। দূতাবাসগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মাথা বাড়িয়ে দেয়।

 

জনগণের শক্তি বুঝবার জন্য আরব বসন্ত ও আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট দখলের অভিজ্ঞতা সরকারের সামনে থাকা উচিত। আমাদের জাতীয় জীবনেও বাঁক ঘুরানো গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা কম নেই। এখন মন্ত্রী রদবদল করে লাভ নেই। মন্ত্র বদলাতে হবে। নতুন প্রজন্মের সামনে ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্পকথার গল্প শোনানো হয়েছিল, নতুন প্রজন্মের সেই মোহ ভঙ্গ হয়েছে। নতুন প্রজন্ম আওয়ামী লীগের অতীত ক্ষমতাচর্চার নেতিবাচক দিক সম্পর্কে পরিচিত ছিল না। তাই প্রলুব্ধ হয়েছিল, আশাবাদী হয়েছিল। এবার শুধু মোহভঙ্গই হলো না, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও শ্রেণিচরিত্র বুঝবার সুযোগ পেল এবং বাধ্য হয়ে নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ নিলো।

 

বিরোধী দল সম্পর্কে যারা অতি আশাবাদী নন তারাও মনে করেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বামঘেঁষা মহাজোট সরকার ব্যর্থতার দায়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপচর্চার কারণেই ভয়াবহ পরিণতির ধকল মাথায় নিয়ে ছিটকে পড়তে হবে। আমরাও মনে করি মেয়াদপূর্তির একটি দায় আছে। তবে জনগণ এতটা সময় দেবে কি না সেটা আগামী ৯০ দিনের অভিজ্ঞতাই বলে দেবে। কারণ অর্থনীতির দুর্যোগ মাঠের রাজনীতিকে আশকারা দেয়। জনমত বিগড়ে আছে। সরকার দিশেহারা ও উদভ্রান্তের মতো পথ চলছে। এমন পথচলা যেকোনো সময় হোঁচট খাইয়ে দেয়। তার ওপর বিরোধী দল আগের তুলনায় গোছাল ও সরব। রাজপথ তাতছে। জনগণ পরিবর্তনকামী হয়ে উঠেছে। সরকারের নৈতিক শক্তির অবস্থাও দুর্বল। তাই যারা বলছেন- এই সরকার আগামী বাজেট প্রণয়নের সুযোগ পাবে না, কিংবা যারা মনে করছেন, মেসেজ ক্লিয়ার অ্যান্ড লাউড, অথবা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে যারা সরকারের সময় বেঁধে দিচ্ছেন- তারা অনেক বেশি বাড়িয়ে বলছেন বলে মনে হয় না। আসলেই টাইম ইজ ম্যাচিউরড অ্যান্ড অ্যালার্মিং। অর্থাৎ একটি পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে যাচ্ছে।