ঢাকা, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮, বৃহস্পতিবার বিকাল; ০৫:৩৩:২১
বার্তা »
  

মহাবিশ্বের চির বিস্ময় আল কোরআন : অবিশ্বাসীদের প্রতি পবিত্র কোরআনের চ্যালেঞ্জ

27 Nov 2011

.

মহাপবিত্র আল কোরআন যে মানব রচিত কোনো গ্রন্থ নয়, এ সত্যের স্বীকৃতি বহু সংখ্যক অমুসলিম চিন্তাবিদগণ দিয়েছেন। পৃথিবী বিখ্যাত গ্রন্থ ৃভ ঔণরমণ্র টভঢ ঔণরম ষমর্রদধয এর রচয়িতা টমাস কার্ললাইল,  ুলদটববটঢ টভঢ ুলদটবটঢটভধ্রব  গ্রন্থের রচয়িতা রেভারেন্ড আর বসওয়ার্থ স্মিথ, ঊণডফধভণ টভঢ তটফফ মতর্ দণ ৗমবটভ ঋবযধরণ এর রচয়িতা ইতিহাসবেত্তা গিবন, কদণ ীমরঢ াণ্রল্র ধভর্ দণ মিরটভ  এর রচয়িতা জে, শিল্লিডি, ডি, ডি, কদণ ঔলভঢরণঢ এর রচয়িতা ডঃ মাইকেল এইচ হার্ট, দার্শনিক জর্জ বার্নাড’শ, জন ডেভেন পোর্ট, এ, জে, আরবেরী, ফিলিপ হিট্টি, মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধীসহ বহু সংখ্যক চিন্তানায়ক, গবেষক, ঐতিহাসিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পবিত্র কোরআনকে ঐশী গ্রন্থ  বলে স্বীকৃতি দিলেও অনেকের ভাগ্যেই মহাসত্য কবুল করার সৌভাগ্য হয়নি।
পবিত্র কোরআনের সম্মোহনী শক্তি, গবেষণা ও ব্যাখ্যা, শৈল্পিক চিত্র, কোরআনে বর্ণিত মনোজাগতিক চিত্র, মানবিক চিত্র, বিধানাবলী, সংঘটিত বিপর্যয়ের চিত্র, শান্তি ও শাস্তির দৃশ্যাবলী, কোরআনে অঙ্কিত কল্পনা ও রূপায়ণ, শৈল্পিক বিন্যাস, শৈল্পিক বিন্যাসের ধরন, এর সুর ও ছন্দ, বাক্যান্তে বিরতি ও অন্তমিল, কোরআনে বর্ণিত চিত্রের উপাদান, বর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, বিশাল কাহিনীর সংক্ষেপ ও বিস্তৃতি, উপসংহার ও পরিণতি বর্ণনা, কাহিনী বর্ণনায় শৈল্পিক সংমিশ্রণ, কাহিনীর শৈল্পিক রূপ ও বৈশিষ্ট্য, বর্ণনার বিভিন্নতা, কাহিনী বর্ণনায় আকস্মিকভাবে রহস্যের দ্বার উন্মোচন, দৃশ্যান্তরে বিরতি, ঘটনার মাধ্যমে দৃশ্যাঙ্কন, আবেগ অনুভূতির চিত্র, কাহিনীতে ব্যক্তিত্বের ছাপ, কোরআনের বর্ণনা রীতি, মিথ্যা প্রতিপন্ন করার পরীক্ষা, ১৯ সংখ্যার অকল্পনীয় রহস্য ইত্যাদি মুযিজা বিজ্ঞানী ও চিন্তানায়কদের বিস্ময়ে বিমূঢ় করে দিয়েছে। ফলে তাঁরা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন, ‘এ মহাগ্রন্থ অবশ্যই মানব রচিত নয়’।
পৃথিবীতে যে কয়টি গ্রন্থকে ‘ধর্মগ্রন্থ’ হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়, এর একটি গ্রন্থও ‘নিজেকে নির্ভুল, এ গ্রন্থের একটি শব্দের প্রতি সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই, যদি সম্্‌ভব হয় তাহলে পৃথিবীর সকলে সকল শক্তি প্রয়োগ করে এমন একটি গ্রন্থ বা এই গ্রন্থে বর্ণিত ছন্দের অনুরূপ একটি ছন্দ রচনা করো আনো।’
এ ধরণের দুঃসাহসিক ও অনতিক্রম্য চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র আল কোরআন। পবিত্র কোরআন আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং যে দেশে ও পরিবেশে তা অবতীর্ণ হয়েছিলো, সে যুগে আরবী সাহিত্য ছন্দ ও অলঙ্কারিক দিক থেকে সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করছিলো। যাদের সম্মুখে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিলো তাদের মধ্যে আরবী ভাষাসহ অন্যান্য ভাষায় পন্ডিত ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরাও ছিলো। বর্তমানেও জন্মসূত্রে আরবী ভাষী এবং আরবে বসবাস করেন চৌদ্দ মিলিয়নের বেশী খৃষ্টান। আরবী ভাষী ইয়াহূদীদের সংখ্যাও কম নয়। সেই আরবী ভাষাতেই প্রায় চৌদ্দ শত বছর পূর্বে পবিত্র কোরআন অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, ‘আমি আমার বান্দার প্রতি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছি, তার সত্যতা সম্পর্কে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ হয় তাহলে যাও, তার মতো করে একটি সূরা তোমরাও রচনা করে নিয়ে এসো, এক আল্লাহ ব্যতিত তোমাদের আর যেসব বন্ধুবান্ধব আছে প্রয়োজনে তাদেরকেও সহযোগিতার জন্য ডাকো, যদি তোমরা তোমাদের দাবীতে সত্যবাদী হও।’ (সূরা বাকারা-২৩)
‘তারা কি এ কথা বলে, এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ স·) এ গ্রন্থটি রচনা করে নিয়েছে, (হে নবী) আপনি এদেরকে বলুন, তোমরা তোমাদের দাবীতে যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তোমরাও এমনি ধরনের একটি সূরা বানিয়ে নিয়ে এসো এবং এ ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া আর যাদেরকে তোমরা ডাকতে চাও তাদেরকে ডেকে সাহায্য নাও।’ (সূরা ইউনুস- ৩৮)
‘অথবা এরা কি এ কথা বলে, (মুহাম্মাদ স· নামের ব্যক্তি) কোরআন নিজে নিজে রচনা করে নিয়েছে! (হে নবী) আপনি তাদেরকে বলুন, তোমরা যদি তাই মনে করো তাহলে নিয়ে এসো এর অনুরূপ মাত্র দশটি স্বরচিত সূরা এবং আল্লাহ ব্যতিত অন্য যাদের তোমরা সাহায্যের জন্য ডাকতে পারো তাদের ডেকে নাও, যদি তোমরা তোমাদের দাবীতে সত্যবাদী হও।’ (সূরা হূদ- ১৩)
‘তারা নিজেদের কথায় যদি সত্যবাদী হয় তাহলে তারাও এ কোরআনের মতো কিছু একটা রচনা করে নিয়ে আসুক না!’ (সূরা তুর- ৩৪)
‘(হে নবী) আপনি তাদেরকে বলে দিন, যদি সকল মানুষ ও জ্বিন এ কাজের জন্য একত্রিত হয় যে, তারা এ কোরআনের অনুরূপ কোনো কিছু বানিয়ে আনবে, তাতেও তারা এর মতো কিছু বানিয়ে আনতে পারবে না, যদিও এ ব্যাপারে তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয় তবুও নয়।’ (সূরা বনী ইসরাঈল- ৮৮)
মহান আল্লাহ তা’য়ালা পৃথিবীর সকল অবিশ্বাসীদের প্রতি পবিত্র কোরআন সম্পর্কে এ ধরণের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, কিন্তু বিগত চৌদ্দ শত বছরেও কারো পক্ষেই এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কোরআনের অনুরূপ ছোট্ট একটি সূরাও কোনো অবিশ্বাসীর পক্ষে বানানো সম্্‌ভব হয়নি। পৃথিবীতে যে কয়টি গ্রন্থ ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে বরিত হয়েছে আসছে, কেউ ইচ্ছে করলে উক্ত গ্রন্থসমূহ দেখতে পারেন, কোনো একটি গ্রন্থেও এ ধরণের কোনো চ্যালেঞ্জ নেই।
প্রশ্ন হলো, কোরআনের প্রতি অবিশ্বাসী অসংখ্য আরবী ভাষী সাধারণ মানুষ এবং অসাধারণ মানুষ তথা পন্ডিতবর্গ থাকার পরও কেনো তারা পবিত্র কোরআনের ছুড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেনি?
এ প্রশ্নের জবাবও মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনের মাধ্যমেই দিয়েছেন, ‘এ কোরআন এমন কোনো গ্রন্থ নয় যে, আল্লাহর ওহী ব্যতিরেকে কারো ইচ্ছামাফিক বানিয়ে নেয়া যাবে।’ (সূরা ইউনুস- ৩৭)
আল্লাহ তা’য়ালা বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন, তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী ব্যতিত এ ধরণের কোরআন বানানো সম্্‌ভব নয়। অর্থাৎ এ পবিত্র কোরআন নবী করীম (সাঃ) রচনা করেননি এবং কোনো মানুষের পক্ষেই তা রচনা করা সম্্‌ভব নয়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের শিক্ষার জন্য যে সকল ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বর্ণনা করেছেন, তা অতীতের বা বর্তমানের কোনো ইতিহাস গবেষকই ভুল প্রমাণ করতে পারেননি। নবী করীম (সাঃ) এর পবিত্র মুখ উচ্চারিত এসব ঐতিহাসিক ঘটনা যাদের সম্মুখে উচ্চারিত হয়েছিলো, তাদের মধ্যেও বহু সংখ্যক ঐতিহাসিক উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা হাজার বছর বা কয়েক শতাব্দী পূর্বের বর্ণিত ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত ছিলেন। কোরআন বর্ণিত ইতিহাস শুনে তাঁরা সামান্যতম আপত্তিও করেননি। বর্তমানে অজানাকে জানার জন্য পৃথিবীর ভূগর্ভ, স্থল ভাগ, জল ভাগ ও মহাশূন্যের বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন, তাঁদেরও কেউ কোরআন বর্ণিত ইতিহাস সম্পর্কে আপত্তি তোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
একমাত্র কোরআন ব্যতিত পৃথিবীর কোনো একটি ধর্মগ্রন্থেও ‘গ্রন্থটি’ সত্য বা মিথ্যা-  তা প্রমাণের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। দৃষ্টান্ত স্বরূপ, কোনো একটি ধর্মগ্রন্থে মূলনীতি হিসেবে বর্ণনা করা হলো, ‘মাংসভোজী কোনো প্রাণী কখনো তৃণভোজী হবে না।’ অর্থাৎ নিয়মটি অপরিবর্তনীয়। এখন কোনো মানুষ দীর্ঘ প্রচেষ্টায় মাংসভোজী প্রাণীকে তৃণভোজী বানালো। অথবা হঠাৎ করেই কিছু সংখ্যক মাংষাশী প্রাণী তৃণভোজী হয়ে উঠলো।
অবস্থা যদি এ রকম হয়ই, তাহলে উক্ত ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে সন্দেহের দানা বেঁধে উঠবে। অর্থাৎ ধর্মগ্রন্থ অপরিবর্তনীয় মূলনীতি হিসেবে যা কিছু বর্ণনা করছে বাস্তবে ঘটছে তার বিপরীত। কিন্তু মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি মানব জাতির জন্য যে জীবন বিধান পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেছেন, তার মধ্যে সামান্যতম কোনো বৈপরীত্য নেই। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, ‘এরা কি কোরআন (ও তার সুত্র নিয়ে চিন্তা) গবেষণা করেনা? এ গ্রন্থটি যদি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো কাছ থেকে আসতো তাহলে তাতে অবশ্যই তারা অনেক গড়মিল দেখতে পেতো।’ (সূরা আননিসা-৮২)
অনেক গড়মিল দূরে থাক, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গড়মিলও পবিত্র কোরআনে নেই এবং এ চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে গত চৌদ্দশত বছর পূর্বে। কারো পক্ষেই সম্্‌ভব হয়নি সামান্য গড়মিল বের করা। এ কথা আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি, ‘গ্রন্থটি সত্য বা মিথ্যা’ প্রমাণ করার ব্যবস্থা এক মাত্র কোরআন ব্যতিত কোনো গ্রন্থেই রাখা হয়নি। 
এরপর দেখুন, কোরআনে যে বৈজ্ঞানিক থিউরী বর্ণনা করা হয়েছে, তাও আজ পর্যন্ত ভুল বলে কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। পৃথিবীর সৃষ্টি, মহাকাশ, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-উপগ্রহ, মাধ্যাকার্ষণ শক্তি, ব্লাক হোল, গতিবিদ্যা, সম্প্রসারণ শক্তি, উল্কা পতন, মহাশূন্যে পাথরের সাম্রাজ্য, পৃথিবী ব্যতিত অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব, পৃথিবীর স্থল ভাগ, পাহাড়, বনভূমি, ভূগর্ভ, জল ভাগের তলদেশ, পানির উপাদান, মাটির উপাদান, লৌহ, খনিজ পদার্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য, আকরিক, তামা, প্রাণী জগৎ, মানবদেহ, মাতৃগর্ভে মানুষের আকৃতি গঠন, লিঙ্গ নির্ধারণ ইত্যাদি সম্পর্কিত কোরআনে বর্ণিত সুত্র কোনো বিজ্ঞানীর পক্ষেও কিয়ামত পর্যন্ত অস্বীকার করা সম্্‌ভব হবে না।
কোরআন বিদ্বেষী কোনো গবেষক, চিন্তাবিদ বা বিজ্ঞানীও কোরআন বর্ণিত বৈজ্ঞানিক সুত্র অস্বীকার করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছেন না। কারণ তিনি প্রকৃত সত্য অস্বীকার করলে অন্য কোনো বিজ্ঞানী তা গবেষণার মাধ্যমে সত্য বলে মত প্রকাশ করবেন।

-- মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী