ঢাকা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, রবিবার রাত; ০৭:৩২:৫২
বার্তা »
  

অভ্রান্ত জ্ঞানের উৎস আল কোরআন

27 Nov 2011

.

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জ্ঞান দান করেছেন এবং এই জ্ঞান দুই প্রকার। একটি ওহীর জ্ঞান যা আল্লাহ তায়ালা নবীদের মাধ্যমে দিয়েছেন। আরেকটি হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্ড়্গ দিয়ে অর্জিত জ্ঞান। চিন্তা-চেতনা, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান। আমাদের কাছে যে জ্ঞান আছে এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
(হে মানব জাতি!) তোমাদেরকে সামান্যতম জ্ঞান দান করা হয়েছে।
গোটা পৃথিবীর মানুষের যত জ্ঞান আছে, মানুষ সৃষ্টির প্রথম দিন হতে আজ পর্যন্ত এবং এখন হতে কিয়ামত পর্যন্ত যত জ্ঞান আসবে, সমস্ত জ্ঞান এক জায়গায় করলেও আল্লাহ তা’য়ালার অনন্ত-অসীম জ্ঞানের মহাসমুদ্রের এক বিন্দু জ্ঞানের সমপরিমাণও হবে না। মহান আল্লাহ বলছেন, মানুষকে সামান্যতম জ্ঞান দেয়া হয়েছে। আজ আমরা সে সামান্যতম জ্ঞানের কারণে কোথা হতে কোথায় চলে গিয়েছি। গরুর গাড়ি হতে রকেট, টেলিগ্রাফ, ফ্যা, ই-মেইল, ইন্টারনেট, ওয়াবে সাইট হতে মোবাইল ফোন পর্যন্ত চলে গেছি। ই-মেইলে কথাগুলো লিখে বা ছবি দিয়ে কোড বাটনে চাপ দিলে পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত কয়েক সেকেন্ডের ভেতরে সে দেশের পত্রিকায় পূর্ণ ছবি এবং খবর ছাপা হবে। ক্ষুদ্রাকৃতির একটি সীম কার্ডের সাহায্যে মোবাইল ফোনে মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীর অপরপ্রান্তে অবস্থানরত কারো সাথে সংবাদ আদান প্রদান করা যায়।
আরও আশ্চর্য হওয়ার মত বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট ছেড়ে দেয়া হয়েছে মহাশূন্যের ভেতরে। এ স্যাটেলাইট চালক ব্যতীত বছরের পর বছর ঘুরছেই। পৃথিবীর মাটি হতে প্রায় চারশত মাইল ওপর দিয়ে পৃথিবীর ছবি ও অন্যান্য তথ্য জানতে পারছে ইলেট্রোনিক মিডিয়াগুলোয়। ঐ স্যাটেলাইটের যান্ত্রিক কোন গোলযোগ দেখা দিলে পৃথিবীর মাটিতে বসে বিজ্ঞানীরা কম্পিউটারের মাধ্যমে মনিটরিং করে চারশ’ মাইল ওপরের মেশিন মেরামত করছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলছেন, তোমাদেরকে সামান্যতম জ্ঞান প্রদান করেছি। এ যদি হয় সামান্যতম জ্ঞান, তাহলে আল্লাহ তায়ালার জ্ঞান কত বেশী!। সে মহামহিয়ান আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্র কোরআনে বলা হচ্ছে-
আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য এসেছে আলো ও স্পষ্ট কিতাব।
এই আলো হচ্ছে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)। আর কিতাব হচ্ছে পবিত্র কোরআন মাজীদ। ‘কোরআন’ শব্দের অর্থ যা বার বার পড়তে হয়, পবিত্র কোরআনে ‘কোরআন’ শব্দটি ৬৮ বার উল্লেখ করা হয়েছে। ‘কোরআন’ সার্থক এক নাম এবং এ নামকরণ করেছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। কোরআনের তুলনায় পঠিত হয়েছে বা পাঠ করা হয় এমন গ্রন্থ সমগ্র পৃথিবীতে দ্বিতীয় আরেকটি নেই। সমগ্র পৃথিবীতে এমন একটি মুহূর্তও অতিবাহিত হয় না, যে মুহূর্তে কোথাও না কোথাও কোরআন পাঠ করা হচ্ছে না। এ মহাগ্রন্থের আরেক নাম ‘কিতাব’ যার অর্থ লিখিত গ্রন্থ। এটিও পবিত্র কোরআনের আরেকটি সার্থক নাম এবং এ নামকরণও করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা। গোটা বিশ্বে কোরআনের তুলনায় লিখা হয়েছে বা ছাপা হয়েছে এমন কোনো গ্রন্থের নাম কেউই উচ্চারণ করতে পারবে না। এ মহাগ্রন্থের আরো কয়েকটি নাম রয়েছে এবং এসব নামকরণও করেছেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এই কোরআন যখন নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি অবতীর্ণ হলো এবং তিনি তিলাওয়াত করলেন, তখন ইসলামের দুশমনরা বলতে লাগলো এই লোকটি পাগল হয়ে গিয়েছে (নাউযুবিল্লাহ্‌)। নবী করীম (সাঃ) কে যখন পাগল বলা হলো তখন তিনি তাদের কথার কোন উত্তর দিলেন না। উত্তর এলো আল্লাহর পক্ষ থেকে-
তোমাদের সাথী পাগল নন। (আল কোরআন)
আল্লাহর রাসূলের কোরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করে মানুষ তাঁর দিকে ঝঁুকে পড়তে লাগলো। পুরো ত্রিশ পারা কোরআন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি একসাথে অবতীর্ণ হয়নি। একটু একটু করে প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ তেইশ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে কোনে বৈপরীত্য নেই, নেই কোনো দুর্বল সুত্র। জ্ঞানের সকল শাখা-প্রশাখা এ কোরআনে প্রাসঙ্গিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। দুর্বল বা মহাকালের আবর্তন-বিবর্তনে পরিবর্তনীয় কোনো জ্ঞানসুত্রও এ কিতাবে বর্ণিত হয়নি। মানুষের সকল প্রয়োজনে যা কিছু বর্ণনা করা হয়েছে তা অকাট্য, অখন্ডনীয়, অপরিবর্তনীয়, মানব স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যশীল, বিশ্ব প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যশীল, পালনে ও অনুসরণে সহজ সাধ্য, যুক্তিগ্রাহ্য ও অভ্রান্ত। পবিত্র কোরআন অবতীর্ণের কাল থেকে বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে এ কথা চর্চা, গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে, কোরআন যা কিছু বর্ণনা করেছে তাই অকাট্য সত্য, অভ্রান্ত এবং এ কোরআনই কেবল মাত্র অপরিবর্তনীয় ও অভ্রান্ত জ্ঞানের উৎস।
অগণিত মানুষকে অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা তথা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে মুসলিম বিশ্বের মূল্যবান লুন্ঠিত সম্পদ ব্যয় করে ইলোক্ট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়া ব্যবহার করে বর্তমান পৃথিবীতে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী চরম সাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ আবহাওয়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্ষমতার দম্্‌েভ হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে প্রকৃত সত্য গোপন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে দুশমনদের জেনে রাখা ভালো, ‘এ আকাশ চিরদিন মেঘে ঢাকা রবে না’। একদিন অবশ্যই আলোয় আলোয় ভরে উঠবে। সেই সোনালী আলোকচ্ছটায় সকলের সম্মুখে পবিত্র কোরআনের অভ্রান্ত জ্ঞান মানুষকে মহাসত্যের দিকে ধাবিত করবে। আজ যা গোপন করা হচ্ছে, তা আগামীল অবশ্যই প্রকাশিত হবেই হবে। হিংসাত্মক মনোভাব পোষণ করে পবিত্র কোরআনের অভ্রান্ত জ্ঞান থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে ক্রমশঃ মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের কৃষ্ণকালো গহ্বরের দিকেই নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আল্লাহ তা’য়ালা এ অবস্থা থেকে মানব সভ্যতাকে পরিত্রাণ দান করুন।
----  মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী