ঢাকা, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮, বৃহস্পতিবার বিকাল; ০৫:৩৪:৩৭
বার্তা »
  

কোরআনকে বুঝার জন্য সহজ করা হয়েছে

27 Nov 2011

.

মানুষ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে পবিত্র কোরআনের আয়াত সংখ্যা, রুকুর সংখ্যা, পারার সংখ্যা, সূরার সংখ্যা, অক্ষরের সংখ্যা, শব্দ সংখ্যা, বাক্য সংখ্যা কত ইত্যাদি। এ সকল কিছু কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে কম্পিউটারকে প্রশ্ন করা হয়েছে এটা মানুষের বানানো কি না? মানুষের পক্ষে কি এটা তৈরি করা সম্্‌ভব? কম্পিউটার উত্তর দিয়েছে, সংখ্যা তথ্যের দিক হতে ভারসাম্যপূর্ণ এমন কিতাব মানুষের দ্বারা তৈরি করা সম্্‌ভব নয়।
সুতরাং পবিত্র কোরআন হলো মানুষের বেঁচে থাকার দলিল। এ কোরআন যেন নকল না হতে পারে সে জন্য কোরআনে কারীমকে মানুষের স্মৃতিশক্তির মধ্যে হেফাজত করার ব্যবস্থা করেছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। পৃথিবীর মানুষ যাকিছু রেকর্ড করে রাখে, তার উপর যদি অন্য কিছু রেকর্ড করে তাহলে পূর্বের রেকর্ড করা সবকিছু মুছে যায়। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের স্মৃতির ভেতরে এমন ব্যবস্থা করে রেখেছেন, যাতে দুনিয়ার সকল কিছু যদি মুখস্থ করে রেকর্ড করে রাখা হয় তাহলে পূর্বেরটা মুছবে না।
এ পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ আছে, যেমন হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদ। সমগ্র পৃথিবীতে বেদের একজন হাফেজ পাওয়া যাবে না। খৃষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল, তাদের মধ্যে বাইবেলের একজন হাফেজ খুঁজে পাওয়া যাবে না। পবিত্র কোরআন ব্যতিত এমন কোনো গ্রন্থ নেই, যে গ্রন্থের একজন হাফেজও খুঁজে পাওয়া যাবে। পবিত্র কোরআনুল কারীম মুখস্থ করার ও বুঝার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা সহজ করেছেন-
আমি এই কোরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ মাধ্যম বানিয়েছি। এ থেকে উপদেশ গ্রহণে কেউ প্রস্তুত আছে কি? (সূরা ক্বামারঃ ১৭)
পবিত্র কোরনানের অন্যত্র বলা হচ্ছে-
পরম করুণাময় আল্লাহ এই কোরআনের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কথা বলা শিক্ষা দিয়েছেন। (আর্‌ রাহমান-১ - ৪)
আমি আমার বাণী পৌঁছানোর জন্য যখনই কোন রাসূল প্রেরণ করেছি, সে নিজ জাতির জনগণের ভাষায়ই পয়গাম পৌঁছিয়েছে, যেন তিনি তাদেরকে অত্যন্ত ভালোভাবে স্পষ্টরূপে বুঝাতে সক্ষম হয়। (সূরা ইবরাহীম- ৪)
হে রাসূল! এ বাণীকে আমি সহজ করে আপনার ভাষায় এ জন্য অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি মুত্তাকিদেরকে সুসংবাদ দিতে ও সীমালংঘনকারীদেরকে ভীতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হন। (সূরা মারিয়াম)
কোরআনের বক্তব্যে বিন্দুমাত্র দুর্বোধ্যতা নেই। এ কিতাব যা বলে তা অত্যন্ত সহজ সরল ও স্পষ্টভাবে বলে দেয়। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন-
এটা সেই কিতাবের আয়াত, যা নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। আমি একে কোরআন রূপে আরবী ভাষায় অবতীর্ণ করেছি। (সূরা ইউসুফ-১-২)
হে রাসুল! এভাবে আমি একে আরবী কোরআন বানিয়ে অবতীর্ণ করেছি এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সতর্কবাণী করেছি। (সূরা ত্বা-হা- ১১৩)
এ কোরআনের ভেতরে আমি মানুষের জন্য নানা ধরনের উপমা পেশ করেছি যেন তারা সাবধান হয়ে যায়, আরবী ভাষার কোরআন- যাতে কোন বক্রতা নেই। যাতে তারা নিকৃষ্ট পরিণাম থেকে রক্ষা পায়। (সূরা যুমার- ২৭-২৮)
এ কিতাব অত্যন্ত সুস্পষ্ট, এর ভেতরে না বুঝার মতো কোন জটিল বিষয়ের অবতারণা করা হয়নি। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
এটা পরম দাতা ও মেহেরবান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা জিনিস। এটি এমন এক গ্রন্থ যার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আরবী ভাষার কোরআন। সেসব লোকদের জন্য যারা জ্ঞানের অধিকারী, সুসংবাদ দানকারী ও সতর্ককারী। (সূরা হা-মীম-সাজদাহ- ২-৪)
আমি যদি একে অনারব কোরআন বানিয়ে প্রেরণ করতাম তাহলে এসব লোক বলতো, এর আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়নি কেন? কি আশ্চর্য কথা, অনারব বাণীর শ্রোতা আরবী ভাষাভাষী! (সূরা হা-মীম-সাজদাহ- ৪৪)
মহান আল্লাহ তা’য়ালা মহাকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলেছেন-
আকাশ যখন বিদীর্ণ হবে, আর নক্ষত্রমণ্ডলী যখন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। (সূরা ইনফিতার- ১-২))
পবিত্র কোরআনে মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর্যায় ক্রমিক মেয়াদকাল সম্পর্কে বলা হচ্ছে-
তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্‌, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি লাভ না করে সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। সুতরাং তাঁর ইবাদত কর। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? (সূরা ইউনুস-৩)
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অন্যত্র বলেছেন-
আর তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপর তোমাদের মধ্যে কে কর্মে শ্রেষ্ঠ তা পরীক্ষা করার জন্য। তুমি যদি বল, মৃতুøর পর তোমরা অবশ্যই উত্থিত হবে। কাফেররা নিশ্চয়ই বলবে, তাতো সুস্পষ্ট যাদু। (সূরা হুদ-৭)
তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও তাদের মধ্যবর্তী সকল কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনিই রহমান তাঁর সম্বন্ধে যে অবগত আছে, তাকে জিজ্ঞেস করে দেখ। (সূরা ফুরকান-৫৯)
পবিত্র কোরআনে আলোচিত ও বর্ণিত সকল বিষয় একত্রিত করলে দেখা যাবে, সকল বিষয়ই অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এসবে কোনোই জটিলতা নেই। মানুষ সহজে যা বুঝে এবং মানুষের অনুভূতিতে ধরা পড়বে, সে পদ্ধতিতেই পবিত্র কোরআন তা বর্ণনা করেছে। এ জন্যেই মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনে একাধিকবার বলেছেন, ‘আমি এ কোরআনকে মানুষের বুঝার জন্যে অত্যন্ত সহজ করেছি।’

-- মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী