ঢাকা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮, রবিবার রাত; ০৭:২৯:৫১
বার্তা »
  

কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় ৮ শহীদ - মু· আতাউর রহমান সরকার

28 Nov 2011

.

 

মহানগ্রন্থ আল কুরআন মানবজীবনের জন্য একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এতে রয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহ সামগ্রিক বিষয়ের যাবতীয় সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান। পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে অসংখ্য মতবাদ ও পথ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীতে তা বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সেই ব্যর্থতার স্তুপে দাঁড়িয়ে মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সা) চরম বিশৃঙ্খলা, অশান্তি ও অন্ধকারের মাঝে আল কুরআনের মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পৃথিবীতে কোন গ্রন্থ যা পারেনি কুরআন দ্বারাই তা সম্ভব হয়েছে। কোন গ্রন্থ তার গ্রন্থের শুদ্ধতার, সত্যতার ব্যাপারে সন্ধিহান, সেখানে কুরআন তার সত্যতার সাক্ষী নিজেই দিয়েছে এভাবে ইহা এমন কিতাব যার মধ্যে কোন সন্দেহ সংশয় নেই, ইহা মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত। কুরআনের ছায়ায় তৈরি হয়েছে ওমর খৈয়াম, আল খারিজমি, ইবনে সিনা, আল জাবিরএর মত বিজ্ঞানি, হযরত আবু বকর, হযর ওমর, হযরত ওসমান, হযরত আলী ও হযরত সায়ীদ এর মত খলিফা (গভর্ণর)যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল গরীবদের তালিকা তৈরি করতে। হযরত ওমর (রা) এর কাছে জমা দেয়া তালিকায় হযরত সায়ীদের নাম শীর্ষে দেখে তার প্রজাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আপনাদের গভর্ণর অভাবী? জবাবে সেদিন তারা বলেছিলেন নিশ্চয়ই আল্লাহর শপথ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের গভর্ণরের পরিবারে দীর্ঘ সময় এমনও অতিবাহিত করেছে যখন তাদের অন্ন করার কিছুই থাকে না এবং চুলার আগুন পর্যন্ত জ্বলে না। কুরআনের সম্মোহনী শক্তিতে সম্মোহিত হয়েছিল আরবের অধিবাসীরা। যার অন্তর আল্লাহ ইসলামের জন্য উন্মুখ করে দিয়েছিলেন সেই কুরআনের সম্মোহনী প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। তবে তাদের কথা স্বতন্ত্র, যাদের চোখের উপর আবরণ পড়ে গিয়েছিল। তারা কুরআন থেকে কোনরূপ উপকৃত হতে পারেনি। চোখ থাকর পরেও অন্ধ মানুষগুলো যুগে যুগে কোরআনের বিরুদ্ধে নানামুখি ষড়যন্ত্র মেতে উঠেছিল। আবার তাদের ষড়যন্ত্রে মোকাবেলায় কুরআনের মর্যাদা রক্ষার অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে গিয়ে অনেকে শাহাদাত এর অমীয় পেয়ালা পান করেছেন। অনেকে আজ আমাদের সামনে উপস্থিত আছেন হাত, পা, চোখ হারিয়ে জীবন্ত শহীদ হিসেবে বর্তমান পৃথিবীতে আধুনিক জাহেলিয়াতের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পবিত্র কুরআনের উজ্জল মশাল হাতে সকল বাধা অতিক্রম করে কোরআনের দাওয়াতে ক্লান্তিহীনভাব মানুষকে দানকারী শহীদী কাফেলার কর্মীদের কাছে, বিবেকবান মানুষের কাছে ১১ মে এক স্মৃতিময়, নতুনভাবে চেতনায় উজ্জিবিত একটি দিনে নাম। আল কুরআনের সমাবেশ শাহাদাতবরনকারী ৫ বীর শহীদের ত্যাগ কুরবানী স্মরণ করে কুরআনকে রাজ কায়েমের নতুন শপথ গ্রহনের আহবান, জীবন যাবে কিন্তু অন্যায়ের কাছে শীর যাবে নোয়ানো যাবে শিক্ষা গ্রহনের ঐতিহাসিক দিন ১১ মে।

পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান ভান্ডার আল কুরআন মানবতার মুক্তির দূত আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) উপর দীর্ঘ ২৩ বছর সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, যুগ জিজ্ঞাসার দিতে নাজিল হয়েছে। সেই কুরআনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র করছিল। কুরআনের সম্মোহনী শক্তির কাছে মাথা নত করে সত্য সুন্দর ও কল্যাণের পথে হাজারো মানুষের আলোক মিছিল কোন সময়ই সহ্য করতে পারেনি। কখনো কুরআনের অনুসারীদের ---কখনো বিভ্রান্ত, অপপ্রচার চালিয়ে থামিয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। কুরআনের প্রেমিকদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। ১৯৮৫ সালের ১০ এপ্রিল হয়েছিল ভারতের  কলকাতায়। কলকাতার হাইকোর্ট ভারতীয় ২ উগ্রবাদী হিন্দু পদ্মলোচন চোপরা ও শীতল শিং  সূরা বাকারার ১৯১ নং আয়াত ও সুরা তাওবার ৩১ নং আয়াতকে সামনে রেখে তারা রীট করে কুরআন একটি সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক গ্রন্থ তাকে বাতিল করতে হবে। তারা দাবি তুলে ভারতিয় সঙবিধানের ২২নং ধারা সিআর পিসি ১১৫(ক) ও ২২৯(ক) অনুযায়ী কুরআন ভারতের সংবিধান বিরোধী। ণীতি নৈতিকতাকে বির্সজন দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট এর বিচারপতি পদ্ম খাস্তাগির রীট গ্রহণ করে ৩ সপ্তাহের মধ্যে এফিডেভিট দাখিল করার জন্য রাজ্য সরকাররকে নির্দেশ প্রদান করেন। কুরআন একটি সাম্প্রদায়িক উস্কানিদানকারী গ্রন্ত, কাফের-মুশরিকদের ব্যাপরে কঠোর অবস্থানের কথা বলে এমনকি তাদের কে হত্যা করার কথা বলে, এই গ্রন্থকে রাথা যাবেনা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারতে। একে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। তাদের এ ধরনের উস্কানি, বিদ্ব্যেষ মূলক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য এবং অতি উতসাহী বিচারপতি পদ্মলোচন খাস্তাজির রীট গ্রহনের মত ধূর্ততা মূলক সিদ্ধান্ত মুসলমানদের করেছিল বিক্ষুদ্ধ।

প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কুরআন পাগল বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় । তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় ধর্মপ্রান মুসলিম যুবকদের মাছঝ।পৃধিবীর ২য় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাঙলাদেশের মুসলমানদেরকে মধ্যে দেখা যায় তীব্র ক্ষোভ। কুরআননের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্ট  অপমান জনক সিদ্ধান্তে মেন নেওয়া সম্ভব না। যাদের ধমনীতে শহীদের রক্ত । আযানের ডাক শুনে যারা ঘুমাতে যায় এবয় আজানের ডাক শুনে যারা ঘুম থেকে জেগে উঠে সেই মুসলিমরা ঘরে বসে থাকতে পারে না তার প্রমাণ ছিল ১৯৮৫ সালের ১১ এপ্রিল। সারা বিশ্বের প্রতিবাদী মুসলিম জনতার পাশাপাশি বাংলাদেশেও সেদিন জেগে উঠেছিল লক্ষ প্রাণ রাজপথে, ক্যাম্পাসে, গড়ে উঠেছিল প্রতিবাদ বিক্ষোভ। বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে নীতি নৈতিকতা ও যোগ্যতার আলোকে আলোকিত মানুষ গড়ার কাফেলা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির যেখানে, যখন কুরআনের উপর আঘাত হয়েছে তখনই প্রতিবাদ বিক্ষোভের মাধ্যমে তার জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছে। ১৯৮৫ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে প্রতিবাদ বিক্ষোভের ডাক দেয়। স্বৈরাচারী সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশ সমাবেশে আগত ইসলাম প্রিয় জনতাকে বিভিন্ন স্থানে বাধার সৃষ্টি করে, অনেককে নির্মম ভাবে আঘাত করে আহত করে, কাউকে করে গ্রেফতার। মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারের যেখানে উচিত ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে তার প্রতিবাদ করার অথবা প্রতিবাদী মানুষকে তার গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা সৃষ্টি না করা সেখানে তার বিপরীত আচরণ মানুষ হয়েছিল হতাশ। শুধু ঢাকায় নয় সারাদেশে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদী মানুষের উপর একই ধরনের অমানবিক আচরণ করে।

তারা জানে না কুরআন পাগল মানুষকে নির্যাতন করে, সমাবেশ ভন্ডুল করে থামানো যাবে না। সরকারের সকল বাধাকে উপেক্ষা করে মাসব্যাপী ঘোষণা করা হয় লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচির। পাড়া-মহল্লায়, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় গড়ে ওঠে তুমুল আন্দোলন। ১১ মে ছিল সে

আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচির একটি দিন। কুরআন বাজেয়াপ্ত করার অন্যায় দাবির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ন্যায় চাপাইনবাবগঞ্জের বীর জনতা জানতেন আল কুরআনের সাথে মুমিনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ। কোন প্রকার হুমকি, ষড়যন্ত্র এই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে না। কুরআনের মর্যাদা রক্ষার্থে প্রয়োজনে জীবন দিতে হবে। ১৯৮৫ সালের ১১ মে সেই দৃঢ় বিশ্বাসকে সামনে রেখে চাপাইনবাবগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজন করা হয়েছিল প্রতিবাদ সমাবেশের। সমাবেশ বাস্তবায়নে চাপাইনবাবগঞ্জের আলিয়া মাদ্রাসার ততকালীণ অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল কমিটি। লিফলেট, পোস্টার, মাইকিং চলে লাগাতার। জেগে ওঠে মুসলিম জনতা সবার মাঝে সৃষ্টি হয় কবি ফররুখের কবিতার প্রতিধ্বনি- আমাকে যদি আহত করা হয়, কিংবা নিহত হই দানবের অত্যাচারে তবু প্রতীক্ষায় থাকি ইসলামী বিপ্লবের। শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত জনগণ যখন সমাবেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সেই সময় বাধ সাজে এরশাদ সরকারের প্রশাসন। সমাবেশ শুরুর ৩ ঘন্টা আগে সমাবেশ আয়োজনকারীদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হল সমাবেশ করা যাবে না। জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে সভা বাতিলের জন্য তাদের পক্ষ থেকে তৈরি কাগজে নেয়া হল স্বাক্ষর। প্রশাসন নিজ উদ্যোগে মাইকিং করে সমাবেশ বাতিল হয়েছে, ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে ঘোষণা করা হয়। একদিকে চলছে সরকারের ঘোষণা অন্যদিকে ততকালীন পুলিশ সুপার আওলাদ হোসেন ও ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে সমাবেশ স্থলে ব্যাপক পুলিশ নিয়ে অবস্থান করে যে কোন মূল্যে সমাবেশ ঠেকানোর প্রস্তুতি। যাদের হৃদয়ে কুরআনের ভালবাসা আছে তাদেরকে কি দমিয়ে রাখা যায়? নির্দিষ্ট সময়ে মিছিলে মিছিলে ছেয়ে গেল সভাস্থল। পুলিশ সুপারের পক্ষে আদেশ দেয়া ছিল সহজ কাজ। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতস্ফূর্ত মিছিল ঠেকানো এত সহজ কাজ ছিল না। সরকারী মাইকিং এর হলো উল্টো প্রতিক্রিয়া, চাপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে শত মাইল পাঁয়ে হেঁটে ইতোমধ্যে ছুটে এসেছে হাজারো মানুষ।জনতার এ উপস্থিতির খবর পেয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে ছুটে এল পুলিশ। পুলিশ হুংকার দিল এখনই ময়দান খালি করে সবাইকে চলে যেতে হবে। কুরআন প্রেমকি জনতা কুরআনের অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে হৃদয়ের অব্যক্ত বেদনা প্রকাশের একটু সুযোগ চাইল। সভা আহ্বানকারী আলেমগণ এগিয়ে গিয়ে বললেন, আমরা উপস্থিত জনতাকে সভা না করার ঘোষণাটি জানিয়ে দেই, আর একটু দোয়া করে চলে যাই। পাষণ্ড ম্যাজিষ্ট্রেট তাও সইতে পারলেন পারল না। দম্ভ করে চেঁচিয়ে বলল, এ মুহুর্তেই এ স্থান ত্যাগ করতে হবে। নইলে গুলির আদেশ দেবো, শালা মৌলবাদীদের সাফ করে দেব। উত্তেজিত আবেগাকুল জনতা চলে গেল না গুলির ভয়ে এ স্থান ত্যাগ করা মানে কুরআনের অপমান। কুখ্যাত কর্তাব্যক্তিটি নির্দেশ দিলেন গুলি চালানোর। কোন অপরাধে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হল? তা কেউ জানে না, বিনা উস্কানিতে এক নাগাড়ে গুলি চলল পনের মিনিট। গুলিতে একে একে ঢলে পড়তে লাগল, জনতা দিগ্বিদিক ছুটতে লাগল। ছুটন্ত জনতার পিছু ধাওয়া করে শহরের অভ্যন্তরেও গুলি চালাতে থাকে খুনিরা। টুপি, পাঞ্জাবি আর দাঁড়ি দেখলেই নির্মমভাবে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। যেন ভারতে নিরীহ মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত হয়েছে এমন অবস্থা সৃষ্টি হল চাঁপাইনবাবগঞ্জ। পুলিশের গুলিতে একে একে শহীদ হন কৃষক আলতাফুর রহমান, রেল শ্রমিক নজরুল ইসলাম, রিক্সা চালক মুক্তার হোসেন, শাহাবুদ্দিন, দিন মজুর সেলিমউদ্দিন, শিবিরের স্কুল কর্মী শীষ মোহাম্মদ, আব্দুল মতিন, রাশেদুল হক্। আহত হয় শতাধিক মুসলিম জনতা। কুরআনের মর্যাদা রক্ষার জন্য ৮ জনের জীবন কেড়ে নেয়ার পরও পাষণ্ড ওয়াহিদুজ্জামানের নির্দেশে আহতদেরকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মিনিবাস থামিয়ে গুলি করে জনতার উপর। গ্রেফতার করে অর্ধশতাধিক কুরআন প্রেমিককে। শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয় পৃথিবীর ইতিহাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘটে যাওয়া সেদিনকার নির্মম নারকীয় হত্যাকান্ড ছিল হিটলার বাহিনীর নির্যাতনের চেয়ে আরো বেদনাদায়ক। এত শহীদ, আহতের ঘটনা যাতে বাংলাদেশের মানুষ না জানতে পারে পরদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়, জারি করা হয় কারফিউ। বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য সরকার এমন কোন পদক্ষেপ নেই যা গ্রহণ করেনি। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশ না হলেও সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথের যাত্রীরা নিজেরা এক একটি পত্রিকার ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে সভ্য জগতে এরূপ বর্বরতার মুখোশ উন্মোচনে যার যার অবস্থান থেকে প্রানান্তকর প্রচেষ্টা চালায়। আল্লাহর রাসূলের কাছে নাযিল হওয়া কুরআনের আয়াত প্রচারে সাহাবায়ে কেরাম ঐ সময় বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার না থাকলেও একজন আদর্শ দায়ী হিসেবে, দ্বীন প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী হিসেবে  পাগলের মতো এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত যেমন ছুটে বেড়াতেন ঠিক তেমনি ১১ মে বেদনা বিধূর সে ঘটনা পরবর্তী সময়টুকুতে আল্লাহর দ্বীনের কর্মীদের শহীদদের জানাযা, আহতদের সুচিকিতসা, সরকারের দেয়া অন্যায় কারফিউ ভঙ্গের মত দুসাহসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছিল তার বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তখন থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবির ১১ মে কুরআন দিবস পালন করে আসছে। আজ দু:খ লাগে ঐসময়কার ঘটনায় জড়িত দোষীদের বিচার না করে খুনীদের সাথে করেছে আপোষ, অন্যায়ের হোতা ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়ে করেছে পুরস্কৃত। অথচ যারা জীবনের একটি বিশাল সময়ে কুরআনের খেদমত করেছে, নেতৃত্ব দিচ্ছে কুরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সে সকল ব্যক্তিদের যখন মিথ্যা ও সাজানো মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডের ঘটনা যখন দেখি, যখন কুরআনের বিরুদ্ধে অব্যাহত গতিতে ষড়যন্ত্র চোখে পড়ে, যখন দেখি ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বত্র অপপ্রচার, মিথ্যাচারের ছড়াছড়ি তখন ঘুমিয়ে থাকা কুরআনের সৈনিকদের উদ্দেশ্যে কবির ভাষায় বলব, নহি মোরা জীব ভোগ বিলাসের, শাহাদাত ছিল কাম্য যাদের, ভিখারী সাজে খলিফা যাদের, শাসন করেছিল আধা জাহান, তারা আজ ঘুমায় বেহুশ, বাহিরে বহিছে ঝড়-তুফান। তরুণদের প্রতি আহ্বান জানাবো ৮ শহীদের রক্ত তখন বৃথা যাবে না যখন আমরা কুরআনকে বুকে ধারণ করে সাহসের সাথে নিজেদের পথচলা অব্যাহত রাখি।   ‍‍‍‍